সংগঠনটি বলছে, বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি টন রড উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খরচ মিলিয়ে অতিরিক্ত ১১-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে পারে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ইস্পাত শিল্পের সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত শিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর প্রত্যাহার, বিক্রয় পর্যায়ের ভ্যাট ও স্থানীয় স্ক্র্যাপের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট বাতিল, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট কাঁচামালের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর-শুল্ক পুনর্বিবেচনা, টার্নওভার কর ১ শতাংশের বদলে আগের মতো দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা ও উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা ও বিনিযোগবান্ধব কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। তবে একই সময়ে ইস্পাত শিল্পের ওপর নতুন করে ভ্যাট, শুল্ক ও করের অতিরিক্ত বোঝা আরোপ করা হয়েছে, যখন শিল্পটি অত্যন্ত কঠিন ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন, অথচ উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি টনেরও বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তীব্র আর্থিক চাপে ফেলছে।
সংগঠনটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে আনুমানিক ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর মাশুল, রিভার ভিউজ, ল্যান্ডিং চার্জ, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি টন রডে সরাসরি উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবং অধিকাংশ মিল ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হওয়ায় ওভারহেড ব্যয়, ব্যাংক সুদ ব্যয় ও স্থায়ী ব্যয়ের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতি টন রডে আরো প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা পরোক্ষ ব্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর মিলিয়ে ইস্পাত শিল্পের ওপর মোট অতিরিক্ত ব্যয় আনুমানিক ১১-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিএসএমএর নেতারা বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উৎপাদন ও শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, রেলপথ, মেট্রোরেল, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে রডের চাহিদা বাড়বে। এতে মিলগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারবে।
এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও রহিম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মারুফ মহসিন বলেন, ‘আমি একজন ইস্পাত উৎপাদক হিসেবে সরকারকে এমন নতুন প্রকল্প চালু করতে উৎসাহিত করি, যা রিয়েল এস্টেট, ভারী শিল্প এবং সরকারি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মাথাপিছু ইস্পাত ব্যবহার বৃদ্ধি করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএর মহাসচিব ও রানি স্টিলের চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী এবং সিএসআরএমের পরিচালক জাকারিয়াসহ ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তা।